সবুজ চোখ থেকে
পিঁপড়ে...
দুপুরে ঘুম থেকে উঠে
আয়নায় নিজের দু-চোখের সাদা অংশটা সবুজ দেখেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। দু-এক বার চোখ
পিটপিট করি। প্রথমে মনে হল অর্ধজাগরণের ভ্রান্তি। চুপিসারে চোখে কন্ট্যাক্ট লেন্স
লাগিয়ে দিয়েছে কেউ, যখন ছিলাম ঘুমের ঘোরে। খানিক পরে বুঝি, তা নয়। মনে হল, তবে বুঝি
রঙ লাগিয়ে গিয়েছে কেউ। একটু কাঁদি। চোখের জলে ধুয়ে যাবে সব। কাঁদার চেষ্টা করতে
প্রথমে শুধু শ্বাসের শব্দ দ্রুত ও সুতীক্ষ্ণ হতে থাকল। তারপর পিঁপড়ে বেরতে থাকল
চোখ দিয়ে। পিঁপড়েগুলোও সবুজ। এবার আমি ভয় পেয়ে গেলাম।
প্রথমে মায়ের কথা মনে
পড়েনি। মনে পড়ল মায়ার কথা। তাকে সবাই মায়া বলে
ডাকে বলে আমি নাম রেখেছি নিয়তি। কখনও ডাকি ছায়া বলে। সে আমায় ছায়া দ্যায়।
আমার ভয় হল, হাসলে কি ছায়ার দাঁতগুলোও এরকম সবুজ দ্যাখাবে? সে কি আমার এই অবস্থা
দেখে উতলা হয়ে উঠবে না? তার পরেই ময়ের কথা মনে এল। মনে পড়তেই যেন অবশ হয়ে গ্যালো
শরীরটা। মা নিশ্চই কেঁদে ফেলবে। ভাবতেই আমারও কান্না পেল। চোখ দিয়ে আরও কিছু
পিঁপড়ে গড়িয়ে পড়ল। বাবা নিশ্চই চিৎকার চ্যাঁচামেচি শুরু করে দেবে। জ্যাঠা
দৌড়োদৌড়ি। ভাই এসে জিজ্ঞেস করে যাবে, “কিরে, কিভাবে হল? উল্টোপাল্টা কিছু
খেয়েছিলি? রাস্তায় কোথাও পিঁপড়েদের আস্তানার আসেপাশেই শুয়ে পড়িসনি তো মদের ঘোরে?
আমি জানি আমি কোন কথা
বলতে পারবো না। শুধু অপেক্ষায় থাকব। কখন, কেউ, কোনো ডাক্তারকে নিয়ে আসে। গলার
কাছটায় যা আটকে আছে তা-ও কি পিঁপড়ের ড্যালা? কিন্তু পিঁপড়েগুলো আসছে কোথা থেকে?
ওরা কি মাথার ভিতর, ঘিলুতন্ত্রে? অবসন্ন যে মাথা যন্ত্রনাটা আমায় কুঁরেকুঁরে
খাচ্ছিল, তা-ও কি এ-জন্যই?
নিয়তি আমায় ছায়া
দ্যায়। কিন্তু ও গাছের ফল আমার জন্য নয়। বাগান তো আর আমার নয়। তার চাঁদোয়ার নিচে
সে আমায় দু-দন্ড বসতে দ্যায়। গুঁড়িতে হ্যালান দিতে দ্যায়। গাছ থেকে কোনও ফল কি
নিচে পড়ে গেছিল কাল? আমি কি, তুলে, খেয়ে নিয়েছিলাম আনমনে? অ্যাতো পিঁপড়ে কি ছিল ওই
ফলের ভিতরই? নিষেধের বেড়াজাল ডিঙোলে একটা মূল্য চোকাতেই হয়। কিন্তু আমি কি আদৌ
কোনো ফল খেয়েছিলাম, না সেটা নিতান্তই মায়া? কিছুই বুঝতে না-পারায় অস্বস্তি সূচক
ক্রমশ চড়তে থাকে। গলার কাছটায় অস্বস্তিটা ক্রমশ বাড়তে থাকায় এবার মনে হয় গলায়
আঙ্গুল দিয়ে বমির চেষ্টা করা দরকার।
(চলবে)